বিশ্বের শীর্ষ তামা উৎপাদনকারী দেশ চিলি। দেশটি চলতি ও আগামী বছরের জন্য ধাতবপণ্যটির দামের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। চিলির সরকারি কপার কমিশন কোচিলকো জানিয়েছে, সরবরাহে বিঘ্নের কারণে ঘাটতির দিকে এগোচ্ছে তামার বাজার। এছাড়া বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়াও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। খবর মাইনিং ডটকম।
কোচিলকোর দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে প্রতি পাউন্ড তামা বিক্রি হতে পারে গড়ে ৪ ডলার ৩০ সেন্টে, আগে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল ৪ ডলার ২৫ সেন্ট।
সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ৯০ দিনের যুদ্ধবিরতির কারণে বাণিজ্য পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। কোচিলকো আশা করছে, বিশ্বব্যাপী তামার চাহিদা ২০২৫ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী তামার সরবরাহ চলতি বছর মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়বে, যা আগের ৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। এরই মধ্যে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ফ্রিপোর্ট-ম্যাকমোরান, গ্লেনকোর ও অ্যাংগ্লো আমেরিকানের মতো কোম্পানিগুলোর উৎপাদন কমেছে।
চিলি থেকেও চলতি বছর তামার সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। কোচিলকো জানিয়েছে, চিলির বার্ষিক উৎপাদন ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ৩ শতাংশ হারে বাড়তে পারে, যা আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় কম।
এদিকে নিকটবর্তী সময়ে সরবরাহ সংকটের কারণে লন্ডনের বাজারে তামার দাম মাস ভিত্তিতে আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় বাড়তে পারে। এর পেছনে ভূমিকা রাখবে স্পট ও ফিউচার মার্কেটে মূল্যের বড় ব্যবধান। তবে শুক্রবার তামার দাম ছিল স্থিতিশীল।
লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএসই) তিন মাসের সরবরাহ চুক্তিতে এদিন ধাতবপণ্যটির দাম টনপ্রতি ৯ হাজার ৫৭০ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। লন্ডনে মে মাসের এখন পর্যন্ত তামার দাম ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ এলএমই অনুমোদিত গুদামে তামার মজুদ কমে যাওয়া। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত লন্ডনের গুদামগুলোয় তামার মজুদ ৪৫ শতাংশ কমেছে। মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৭৫ টনে, যা প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।